"মায়েরমতোদেশ"
- remoiaf2017
- Feb 15
- 2 min read
যখন জন্মালাম, প্রথম যে হাত
আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল—
সেটা ছিল আমার মা।
আর যখন প্রথম হাঁটতে শিখলাম,
যে মাটির ওপর ভর দিয়েছিলাম—
সেটাও তো এক মা,
এই দেশ।
একজন মা আমাকে আদর করে বড় করেছেন,
আরেকজন মা—
মাটি, বাতাস, নদী, শহর, ফুটপাত—
সব মিলে আমাকে আশ্রয় দিয়েছে।
কিন্তু
আমি কি দু’জন মা’কেই সমানভাবে ভালোবেসেছি?
ঘরের মাকে কষ্ট দিই না—
এটাই তো শেখা নিয়ম।
তাহলে দেশের মাকে কেন?
রাস্তার ধারে ফেলে রাখা আবর্জনা,
নালায় ডোবানো প্লাস্টিক,
শব্দে ভরা রাত, ধোঁয়ায় কালো সকাল—
সবই কি মায়ের গায়ে আঘাত নয়?
আজ ভোরে হেঁটে যেতে যেতে দেখলাম—
রাস্তা নোংরা, বাতাস ভারী,
নালা উপচে জল রাস্তায় ছড়িয়ে আছে।
হঠাৎ মনে হলো—
এ জল তো শুধু বৃষ্টি নয়,
এ জল আমার নিজের শহরের চোখের জলও হতে পারে।
কতবার দেখেছি—
একজন মা সন্তানের হাত মুছে দেয়,
সন্তান ভুল করলে আবার শেখায়—
“এটা করো না, এভাবে নয়।”
কিন্তু দেশের মা?
সে তো কথা বলতে পারে না,
তাই নীরবই থাকে
আঘাত পেলেও, অপমানিত হলেও।
আমরা বলে উঠি—
“দেশ বদলাবে, শহর ঠিক হবে!”
কিন্তু বদলানোর মানুষটি কে?
তুমি, আমি—আমরা—
এই সন্তানেরাই তো!
কারণ সিভিক সেন্স
কোন মাথাব্যাথা নই,
এটা এক ধরনের মমতা—
মাকে কষ্ট না দেওয়ার প্রতিজ্ঞা।
একবার ভাবো—
যে রাস্তা দিয়ে তুমি হাঁটো,
সেটা যেন তোমার ঘরের উঠোন।
যে নদী বয়ে যায়,
সেটা যেন তোমার মায়ের চুলে পরা জুঁইয়ের সুগন্ধ।
যে বাতাস ফুসফুস ভরে দেয়,
সেটা যেন মায়ের শাড়ির গন্ধ—
পবিত্র, কোমল, নিরাপদ।
তাহলে তুমি কি পারো
সেই উঠোন নোংরা করতে?
সেই গন্ধকে বিষে রূপান্তর করতে?
না, পারবে না—
যদি সত্যিই ভালোবাসো।
সিভিক সেন্স কোনো আইন নয়,
এটা হৃদয়ের শিক্ষা—
নিছক রঙ মাখিয়ে বলার মতো সহজ কথা—
“আমি নিজের মাকে যেমন আঘাত দিই না,
দেশকেও দেব না।”
যেদিন প্রতিটি শিশু স্কুলে প্রথম শিখবে—
ডাস্টবিন কোথায়,
রাস্তার নিয়ম কী,
পৃথিবী কাকে বলে,
এবং পরিবেশ কীস




Comments