top of page

Neerav Satya
All Posts


মুক্তমনেরপ্রশ্ন
জয় শ্রী রাম আওয়াজ ওঠে, আল্লাহু আকবর প্রতিধ্বনিও ফিরে আসে দু-পাশেই আগুন, মাঝখানে আমি — একজন মানুষ মুক্ত চিন্তার সৈনিক। যে জানে সত্যি কথা বললে, আজও শূলিতেই চড়তে হয়। আমি ভাবি কার কাছে যাবো? কার মুখে মানবতার নাম নেবো? যেখানে ধর্মের নামেই রক্ত ঝরে, সেখানে ঈশ্বরও নীরব বসে থাকে নিজের মন্দির নিজের মসজিদে — বন্দি হয়ে। ইতিহাসের পাতা খুললে দেখি — সবচেয়ে বড় যুদ্ধ, সবচেয়ে কালো রাত, সবচেয়ে ভয়ংকর হত্যার কান্না প্রায় সবই তো ধর্মের পতাকার তলায়! আর আজ? একবিংশ শতকের মানুষ বলে — “আমর
remoiaf2017
Feb 151 min read


"আমারস্থানকোথায়"
একজন এসে বলে— “আমি তোমাদের রক্ষক, বাঁচতে চাইলে আমাকে ভোট দাও।” আরেকজন বুক ফুলিয়ে চিৎকার করে— “তোমার ধর্ম বিপদে! তুমি যদি আজ না জাগো, কাল বাঁচবে না।” কেউ বলছে— “আমাকে জেতাও, তোমাদের জন্য স্বপ্নের মন্দির বানিয়েছি।” অন্যজন দাঁত বের করে বলছে— “তোমরা পাশে থেকো, মসজিদ এখানেই উঠবে, এটাই সিদ্ধান্ত।” তৃতীয় জন? সে নাকি নিরপেক্ষ ! কিন্তু একটু থামলে, গলি-ঘুপচির অন্ধকারে দাঁড়ালে, তার কথার গায়েও একই পুরনো গন্ধ— ধর্ম, জাত, বিভাজন, শুধু রঙটা আলাদা। এদিকে কিছু মানুষ খুশি— কারণ তাদের মন্দ
remoiaf2017
Feb 152 min read


অন্তর্লিখন
মানুষ অদ্ভুত যে হাত ধূপ জ্বালায় সেই হাতই কখনো ইতিহাসের বুকে কঠিন ট্রিগারের চাপ হয়ে ওঠে। একদিকে প্রার্থনার অর্ঘ্য, অন্যদিকে হত্যার যুক্তি— একই মস্তিষ্কের দুই কক্ষ। গান্ধী তাঁর সত্যের পথে ছিলেন পরিষ্কার— কিন্তু নাথুরামের চোখে সে-সত্য ছিলো অন্ধকারের বিষ। যে চোখে ঈশ্বরও কখনো শত্রু হয়ে যায়, সেই চোখ সত্য-মিথ্যার সব রেখাই এক করে দেয়। মার্টিন লুথার কিং, লিংকন, মুজিব, ইন্দিরা, রাজীব, বেনজির… তাদের মৃত্যুর মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার গন্ধ নেই— এ যেন মানুষের নিজের ছায়াকে ভয় পাওয়ার ইত
remoiaf2017
Feb 151 min read


সত্যেরসামনেদাঁড়িয়েস্বীকারোক্তি
আমি জানতাম না— একদিন আমার ধর্ম-পাঠ আমাকেই কাঁপিয়ে দেবে। ভেবেছিলাম সব ধর্মই শান্তি শেখায়, মানুষকে মানুষ হতে বলে। কিন্তু যখন নিজের হাতে খুললাম সেই বই— কেউ ব্যাখ্যা করল না, কেউ ভুল বুঝাল না— আমি নিজেই পড়লাম। কালো কালি, সাদা কাগজ— সরাসরি লেখা শব্দ। আর সেই শব্দের ভিতরেই আমি দেখতে পেলাম— অদ্ভুত, বিপজ্জনক একটা বিভাজনের অঙ্ক। যেখানে “আমরা” আকাশের দিকে উঁচু করা, আর “ওরা” মাটির নীচে ঠেলে দেওয়া— এমন নির্দেশ, এমন ঘোষণার কাঁটা ছুঁয়ে গেল আমার মর্মকে। আমি ভাবলাম— “এটাই কি সেই পবিত্র শি
remoiaf2017
Feb 151 min read


"মায়েরমতোদেশ"
যখন জন্মালাম, প্রথম যে হাত আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল— সেটা ছিল আমার মা। আর যখন প্রথম হাঁটতে শিখলাম, যে মাটির ওপর ভর দিয়েছিলাম— সেটাও তো এক মা, এই দেশ। একজন মা আমাকে আদর করে বড় করেছেন, আরেকজন মা— মাটি, বাতাস, নদী, শহর, ফুটপাত— সব মিলে আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু আমি কি দু’জন মা’কেই সমানভাবে ভালোবেসেছি? ঘরের মাকে কষ্ট দিই না— এটাই তো শেখা নিয়ম। তাহলে দেশের মাকে কেন? রাস্তার ধারে ফেলে রাখা আবর্জনা, নালায় ডোবানো প্লাস্টিক, শব্দে ভরা রাত, ধোঁয়ায় কালো সকাল— সবই কি মায়ের গায়ে আঘাত
remoiaf2017
Feb 152 min read


শেকড়েরডাক
আজকাল ওর বইয়ের পাতায় দেখি —বিশ্বের মানচিত্র খুলে যায় ইংরেজি অক্ষরে তবু আমি খুঁজি, সেই ছোট্ট বাংলা বর্ণমালা — যেখানে “অ” মানে অমল, “আ” মানে আকাশ ওর স্কুলে দেশ মানে এখন — “Global Village”... মাটির গন্ধের জায়গায় ঢুকে গেছে কম্পিউটারের পিক্সেল, ড্রোনের শব্দ আমি চুপ করে শুনি — ও বলে “Papa” আর আমার বুকের ভেতর “বাবা” শব্দটা হারিয়ে যায়। আমি জানি — এই যুগে মানচিত্র বদলে গেছে, ভাষার দেয়াল ভেঙে গেছে, আজ প্রতিযোগিতা শুধু পাশের বেঞ্চে নয়, পৃথিবীর পর্দার ওপারে! তাই ওকে পাঠাই সেই Ce
remoiaf2017
Feb 141 min read


বাবা-ফেলেআসাদিনগুলি
ছোটবেলায় মনে পড়ে বাবা মানেই যেন এক শব্দ — “নিয়ম” ঘুম থেকে ওঠা, স্কুলে যাওয়া, পড়া শেষ করা, বাইরে না ঘোরা — সব জায়গায় যেন তাঁর গলা আর মায়ের গলা? শুধু ভালোবাসার মতো কোমল। তখন বুঝিনি বাবা যে ভালোবাসতেও জানত, শুধু দেখানোর ভঙ্গিটা ছিল অন্যরকম। যখন মা মুছে দিত চোখের জল, বাবা শুধু বলত — “কাঁদিস না, বড় হ।” তখন মনে হতো — বাবার মন কি পাথর? আজ বুঝি হয়তো বা তার চোখেও জল আসত, কিন্তু তিনি ফিরিয়ে দিতেন, কারণ এক বাবা জানে — তার কান্না ছেলেকে দুর্বল করে দেয়। রাত জেগে মায়ের গল্প শো
remoiaf2017
Feb 142 min read


নিরব মানুষের অসমাপ্ত স্বীকারোক্তি
আমি কাউকে ঘৃণা করি না— কোনো জাতি, কোনো মানুষকে নয়। বরং যাদের নিয়ে কথা বলি, তাদের মধ্যেই আছে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, সবচেয়ে উদার চেনা মানুষ। কিন্তু… একদিন, কৌতূহলে, নিজের হাতে খুললাম গ্রন্থের পাতা। কোনো পন্ডিত নয়, কোনো স্কলার নয়— আমার চোখে লেখা শব্দগুলো আমাকে যেটা বোঝাতে চাইল, তা ছিলো— এক বেদনাদায়ক অন্ধকার। কোথাও সহমর্মিতা, কোথাও স্নেহ, কোথাও শান্তি— কিন্তু… তার মাঝেই হঠাৎ উঠে এল কিছু শ্লোক, কিছু নির্দেশ, যেখানে বর্ণিত ছিলো— যুদ্ধ, প্রতিশোধ, শাস্তি, আর “অন্যকে”— অনেক
remoiaf2017
Jan 242 min read


সুভাষ - এক বিতর্কিত সৈনিক !
সুভাষ চন্দ্র বোস— এটা কেবল একটা নাম নয়! এটা একটা বিস্ফোরণ। এটা সেই শব্দ, যা উচ্চারণ হলেই দাসত্বের দেওয়ালে ধরে ফাটল। এটা শুধু বাঙালির পরিচয় নয় ! এটা ভারতের মেরুদণ্ড। এটা ইতিহাসের শুধু পৃষ্ঠাও নয়, এটা আজও চলমান একটি রহস্য। মাতা প্রভাবতীর কোলে শেখেছিলেন শৃঙ্খলা, পিতা জানকিনাথের ছায়ায় শেখেছিলেন ন্যায়ের ভাষা। ধন, প্রতিপত্তি, সম্ভ্রান্ত বংশ— ছিল সবই, কিন্তু ছিল না মাথা নত করার শিক্ষা। Indian Civil Service— ব্রিটিশদের স্বপ্নের তালিকায় এক উজ্জ্বল নাম। কিন্তু সুভাষের কলমে লেখ
remoiaf2017
Jan 232 min read
bottom of page